^ Back to Top
Border Guard Bangladesh

BORDER GUARD BANGLADESH

সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী

HOME >> About Us >> HISTORY

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ইতিহাস

ভুমিকা : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বীরত্ব ও ঐতিহ্যের গৌরবমন্ডিত এক সুশৃঙ্খল আধা-সামরিক বাহিনী। বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু এবং মাদক পাচার প্রতিরোধসহ অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বিজিবি 'অতন্দ্র প্রহরী'র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর ২১৬ বছরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বর্তমানে এবাহিনীর দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপকতা বৃদ্ধি এবং কর্মকুশলতা বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। ইতিহাসের ক্রমধারায় বিজিবি এর বিবর্তন নিম্নরূপ:

ক. রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক ১৭৯৪ সালে গঠিত 'ফ্রন্টিয়ার প্রটেকশন ফোর্স' এর নাম পরিবর্তন করে ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন 'রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন' নামে এবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ৪৪৮ জন সদস্যের দু'টি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল ও চারটি কামান নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

খ. ফ্রন্টিয়ার গার্ডস : ১৮৬১ সালে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত ও অনিয়মিত ১৪৫৪ সদস্য সমন্বয়ে 'ফ্রন্টিয়ার গার্ডস' নামে এ বাহিনী পুনর্গঠিত হয়। তখন এর সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামের এবং অধীনস্থ সীমান্ত ফাঁড়িগুলো কামরূপ, গোয়ালপাড়া, লক্ষীপুর, সিলেট ও ত্রিপুরায় অবস্থিত ছিল। ১৮৭৯ সালে 'স্পেশাল রিজার্ভ কোম্পানী' নামে এবাহিনী পিলখানায় প্রথম ঘাঁটি স্থাপন করে।

গ. বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ: ১৮৯১ সালে এবাহিনীর নতুন নামকরণ করা হয় 'বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ'। তখন একজন ইউরোপীয় সুবেদারের নেতৃত্বে এ ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানী ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশ ঢাকা, ধুমকা, ভাগলপুর ও গ্যাংটকে স্থাপন করা হয়। 

ঘ. ইস্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার রাইফেল্স: ১৯২০ সালে এর জনবল ও শক্তি বৃদ্ধি করে ১৬ টি প্লাটুন সমন্বয়ে 'ইস্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার্স রাইফেল্স' নামকরণ করা হয় । তখন এর প্রাথমিক কাজ ছিল সীমান্ত রক্ষা এবং অভন্তরীণ নিরাপত্তায় সহায়তা করা।

ঙ. ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্স : ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পুনর্গঠিত এবাহিনীর নামকরণ করা হয় ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল্স)। কলকাতা মেট্রোপলিটন আর্মড পুলিশের একটি দল, কিছু সংখ্যক বাঙালি এবং সে সময়ের পশ্চিম পাকিস্তানের এক হাজার প্রাক্তন সৈনিক এবাহিনীতে যোগ দেয়। পরে আরো তিন হাজার বাঙালি নিয়োগ করে এবাহিনীকে সুসংগঠিত করা হয়। দক্ষ নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে অফিসার নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৮ সালে এবাহিনীকে চোরচালান দমনের দায়িত্ব দেয়া হয় । ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এ বাহিনীর জনবল ১৩,৪৫৪ জনে উন্নীত হয়।

চ. মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ : বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এবাহিনী অবিস্মরণীয় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাস্থ তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তর আক্রমণ করে । এবাহিনী সদর দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা ওয়ারলেস যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়। ফলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সৈনিক-জনতা। প্রথম দিকে ইপিআরের বাঙালি সদস্যগণ রণকৌশলগত কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে জিঞ্জিরায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে এবাহিনীর ১২ হাজার বাঙালি সৈনিক অন্যান্য বাহিনী ও মুক্তিকামী মানুষের সাথে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরে ৯ মাস ব্যাপী সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকে। এবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ও শত্রুঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করতে আত্নঘাতি আক্রমণসহ অসংখ্য দুর্ধর্ষ অপারেশন পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে এবাহিনীর সর্বমোট ৮১৭ জন সৈনিক শহীদ হন। এঁদের মধ্যে অপরিসীম বীরত্বের জন্য শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ কে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীর শ্রেষ্ঠ' পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ৮ জন 'বীর উত্তম', ৩২ জন 'বীর বিক্রম' ও ৭৮ জন 'বীর প্রতীক' খেতাবে ভূষিত হন।  

ছ. বাংলাদেশ রাইফেল্স : দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ০৩ মার্চ এবাহিনীর নামকরণ করা হয় বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেল্স)। ১৯৮০ সালের ০৩ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বাহিনীর কর্মকান্ডের বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ রাইফেল্‌সকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৮ প্রদান করা হয় ৷

জ. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ : ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর সদর দপ্তর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হয়। মর্মান্তিক ঐ ঘটনার পর বাহিনী পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। মহান জাতীয় সংসদে ২০১০ সালের ০৮ ডিসেম্বর 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০' পাশ হয়ে ২০ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২৩ জানুয়ারী, ২০১১ তারিখে বাহিনীর সদর দপ্তরে 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ' (বিজিবি) এর নতুন পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং মনোগ্রাম উন্মোচনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় এবাহিনীর নতুন পথচলা।

উপসংহার: নতুন আইনের আওতায় বাহিনীর সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ বাহিনী বর্তমানে ১২টি সেক্টর, ৪৭টি ব্যাটালিয়ন ও বহু সংখ্যক বিওপি এর মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করে যাচ্ছে। বিজিবি 'সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী' হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু এবং মাদক পাচারসহ যে কোনও ধরণের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

Introduction: Border Guard Bangladesh (BGB) is a well-disciplined, valiant and legendary paramilitary force of glories. Better known as the "ever vigilant sentinels of the border" BGB is entrusted with the protection of Bangladesh border, anti-smuggling & anti-narcotics operations, prevention of women & children trafficking, prevention of all sorts of trans-border crimes and internal security duties. Since its inception over 216 years, duties and responsibilities of the force have been increased manifold, as well as operational strategies put on multi-dimensions. The significant changes of the force marked from the history are as follows:

a. Ramgarh Local Battalion: This force started its journey on 29th June 1795 with the name of 'Ramgarh Local Battalion' previously named 'Frontier Protection Force' formed by East India Company in 1794. There were 448 soldiers, two irregular cavalries and only four cannons as the resort of its commencement.

b. Frontier Guards: In 1861, 'Ramgarh Local Battalion' was reorganized and renamed as 'Frontier Guards' with 1454 members altogether. The force headquarter was in Chittagong and under command outposts were at Kamrup, Goalpara, Laxmipur, Sylhet and Tripura. In 1879 'Special Reserve Company' of the force was raised for the first time at Peelkhana.

c. Bengal Military Police: In 1891, this force was renamed as 'Bengal Military Police'. A European Subedar commanded the battalion which had four companies located at different parts of Indian subcontinent namely Dhaka, Dhumka, Vagolpur and Gangtok.

d. Eastern Frontier Rifle: In 1920, its strength was increased by comprising 16 Platoons and renamed as 'Eastern Frontier Rifles'. Then its primary tasks were to protect the borders and assist in internal security duties.

e. East Pakistan Rifles: After partition of the Indian subcontinent, the organization was regrouped and renamed as 'East Pakistan Rifles'. A group of metropolitan armed police of Calcutta and some 1000 ex-soldiers of the then East-Pakistan were merged into this force. Some 3000 Bengali members were also employed in the force. Officers from the army were employed for efficient leadership in the force. In 1958 it was assigned with the tasks of border protection and anti-smuggling duties. The strength of the force increased to 13,454 on 25 March 1971.

f. Active Participation in Liberation War: This force valiantly played an illustrious role in the historic 'Liberation War' of Bangladesh. On 25 March 1971, Pakistani occupied force attacked erstwhile EPR headquarters at Peelkhana. Then 'Independence Message' from 'Bangabandhu' was transmitted to remote areas of the country through wireless system of its headquarters. Consequently soldiers and people of the country were inspired to confront the Pak-forces. At the beginning of liberation war, Bengali members of the force created strong opposition at Zinjira on the bank of Buriganga on tactical ground . Later on, almost 12000 soldiers of this force accompanied by other forces and civil freedom fighters fought 9 month long armed-battle under the commands of 11 sectors. Freedom fighters of this force carried out numerous operations like face to face, guerilla fight and suicidal attacks to destroy the dens of enemies. In the 'liberation war' a total of 817 soldiers of this force sacrificed their lives for the nation. Among them 'Shaheed Lance Naek Nur Mohammad Sheikh' and 'Shaheed Lance Naek Munshi Abdur Rouf' bestowed the highest gallantry award 'Bir Sreshtha' for their vast heroism. Among others, 8 martyrs awarded 'Bir Uttam', 32 martyrs awarded 'Bir Bikram' and 78 martyrs awarded 'Bir Protik'.

g. Bangladesh Rifles: After the independence of Bangladesh, on 03 March 1972 'East Pakistan Rifles' was renamed as 'Bangladesh Rifles (BDR)'. On 03 March 1980, the Government granted 'National Flag' for the force as the special recognition of its activities. In 2008, the force was awarded the prestigious 'Independence Medal-2008' for its outstanding contribution to the 'Liberation War'.

h. Border Guard Bangladesh (BGB): On 25-26 February 2009, a number of 74 people including 57 meritorious army officers were brutally killed in an atrocious carnage occurred in the force's headquarters at Peelkhana. Following that grievous mishap, reorganization of the force inevitably came onward. After passing the 'Border Guard Bangladesh Act, 2010' in the Parliament on 08 December 2010, it has come into effect from 20 December of the same year. Honorable Prime Minister Sheikh Hasina, formally raised the flag and opened the monogram of the renamed force on 23 January 2010 to launch as 'Border Guard Bangladesh (BGB)'.

Conclusion: Reorganization activities of the force according to new law are being implemented. At present, the force is effectively discharging the assigned tasks and duties through its 12 Sectors, 47 Battalions and many other Border outposts. BGB as the "ever vigilant sentinels of the border" is sincerely protecting the border, preventing smuggling, human trafficking, trans-border crimes and internal security duties.